The New Bengal Journal of Medicine

Latest Post

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: জনস্বাস্থ্যের বিবর্তন এবং 'আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার'

 লিখন: ডাঃ চিরঞ্জিত ঘোষ


১. ইতিহাসের আয়নায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে যখন রোগ-শোক আর মহামারির দাপট, তখন ঐক্যবদ্ধ বিশ্বের এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছিল 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' (WHO)-র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দীর্ঘ আট দশকের এই যাত্রায় গুটিবসন্ত নির্মূল থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ মোকাবিলা—জনস্বাস্থ্যের প্রতিটি মোড়ে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাস্থ্য কোনো একক ব্যক্তির সম্পদ নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য "আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার" (My Health, My Right) কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দাবি। আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে প্রযুক্তি তুঙ্গে, অথচ অপুষ্টি আর দূষণ সমানভাবে বিদ্যমান।


২. জনস্বাস্থ্যের বর্তমান মানচিত্র: ২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জসমূহ

বর্তমান বিশ্বে রোগতত্ত্বের (Epidemiology) গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে। আমরা এখন 'ট্রিপল বারডেন অফ ডিজিজ' (Triple Burden of Disease)-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

ক. অসংক্রামক রোগের মহামারি (Non-Communicable Diseases - NCDs)

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এবং ক্যানসার এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ নয়।

  • পরিসংখ্যান: বিশ্বজুড়ে প্রতি ৪ জন মৃত্যুর মধ্যে ৩ জনই মারা যাচ্ছেন অসংক্রামক রোগে।

  • বিপদ সংকেত: ২০২৬ সালে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হৃদরোগের হার আগের তুলনায় ১৫% বেড়েছে।

খ. জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কেবল বরফ গলাচ্ছে না, এটি আমাদের ফুসফুসকেও পুড়িয়ে দিচ্ছে।

  • বায়ুদূষণ: প্রতি বছর ৭০ লক্ষ মানুষ বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যাচ্ছেন।

  • নতুন ভাইরাস: বরফ গলার ফলে হাজার বছরের পুরনো সুপ্ত প্যাথোজেন বা ভাইরাস আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

গ. অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR): এক অদৃশ্য যুদ্ধ

আমরা এমন এক সময়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ একটা ক্ষত নিরাময় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে কারণ ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। একে বলা হচ্ছে 'সাইলেন্ট প্যান্ডেমিক'।

সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মানসিক স্বাস্থ্য 

(PTSD, anxiety, depression)

  By Dr. Chiranjit Ghosh and the NBJM Team

যুদ্ধের দামামা শুধু সীমান্তে নয়, আঘাত হানে মানুষের মনের গভীরে। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে যে, যুদ্ধ কেবল ঘরবাড়ি ধ্বংস করে না, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে পঙ্গু করে দেয়। আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ'-এর মতো চরম সংকটের কথা চিন্তা করি, তখন কেবল পারমাণবিক বোমা বা শারীরিক আঘাতের কথাই মাথায় আসে। কিন্তু এর সমান্তরালে যে আরেকটি অদৃশ্য যুদ্ধ আমাদের মনের ভেতর শুরু হয়ে যায়, তা নিয়ে আমরা খুব কমই আলোচনা করি।

একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংঘাতের আবহে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য—বিশেষ করে PTSD (Post-Traumatic Stress Disorder), তীব্র Anxiety (দুশ্চিন্তা), এবং Depression (বিষণ্ণতা) কীভাবে মহামারী রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে এই দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ গাইডটি তৈরি করা হয়েছে।

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, ইতিহাসের শিক্ষা এবং কীভাবে এই মানসিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

Silent Fallout: Surviving Radiation Sickness 

in the Shadow of World War III

          By Dr. Chiranjit Ghosh and the NBJM team 

1. Introduction: The Unseen Threat of the Modern Age

The geopolitical landscape of the 21st century feels increasingly fragile. With escalating regional conflicts and the modernization of nuclear arsenals, the theoretical specter of a Third World War has transitioned from the pages of dystopian fiction to the briefings of defense analysts.


যুদ্ধের সময় একজন সাধারণ মানুষের মেডিক্যাল প্রস্তুতি

(তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ, ইতিহাস, আধুনিক যুদ্ধ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা )

 Dr.Chiranjit Ghosh & NBJM মেডিকেল এডিটোরিয়াল টিম 

যুদ্ধ—শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধ্বংসযজ্ঞ, হাহাকার আর অনিশ্চয়তা। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে আমরা দেখি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা। কিন্তু আজ, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ' কিংবা 'আধুনিক যুদ্ধ' নিয়ে কথা বলি, তখন দৃশ্যপট অনেকটাই আলাদা।

আজকের যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার অ্যাটাক, বায়োলজিক্যাল ওয়েপন (জীবাণু অস্ত্র), ড্রোন হামলা এবং পরমাণু হুমকির এই যুগে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে আপনার ড্রয়িংরুম কিংবা রান্নাঘর পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মেডিক্যাল প্রস্তুতি বা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

আপনি যদি ভাবেন, "আমি তো সৈনিক নই, আমার আবার যুদ্ধের প্রস্তুতির কী দরকার?"—তবে মনে রাখবেন, আধুনিক যুদ্ধে হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত জায়গাও মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ওষুধের দোকান তখন আর এক ক্লিকে বা এক কলে পাওয়া যাবে না।

এই দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ গাইডটিতে আমরা আলোচনা করব ইতিহাসের শিক্ষা, আধুনিক যুদ্ধের রূপ এবং যুদ্ধের সময় একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন বাঁচাতে কী কী মেডিক্যাল প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।


ক্যানাবিস ও স্বাস্থ্য: মস্তিষ্ক থেকে সমাজ - একটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ

Dr.Chiranjit Ghosh & NBJM মেডিকেল এডিটোরিয়াল টিম  |  মার্চ ২০২৬ |  পর্যালোচিত: WHO, CDC, PubMed

১. ভূমিকা

ক্যানাবিস — যা ভারতে গাঁজা, ভাং বা চরস নামে পরিচিত — পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত মনোসক্রিয় পদার্থ (psychoactive substance)। হাজার বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ক্যানাবিসের ব্যবহার চলে আসছে। হোলির ভাং থেকে শিবরাত্রির গাঁজা -এই উদ্ভিদটি ভারতীয় সমাজের সাথে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ কোটি মানুষ ক্যানাবিস ব্যবহার করেন, যা এটিকে পৃথিবীর সর্বাধিক ব্যবহৃত অবৈধ মাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ভারতে এই সংখ্যা কোটির উপরে - এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

 

২০ কোটি+

বিশ্বব্যাপী ক্যানাবিস ব্যবহারকারী (WHO, ২০২৩)

৩.১%

ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে (AIIMS জাতীয় সমীক্ষা)

৯%

আসক্তিতে পরিণত হওয়ার হার (NIDA)

১৭%

কিশোর বয়সে শুরু হলে আসক্তির ঝুঁকি

 



1. Introduction

Antimicrobial resistance (AMR) has emerged as one of the defining public health emergencies of the twenty-first century. Once described by the World Health Organization as a 'slow-motion pandemic,' AMR is now accelerating at a pace that threatens to unravel decades of medical progress and render routine medical procedures — from appendectomies to chemotherapy — life-threatening in the absence of effective antibiotics.

Antibiotics, first introduced clinically with penicillin in the 1940s, transformed the practice of medicine. Bacterial infections that had been almost universally fatal — including septicaemia, pneumonia, and tuberculosis — became treatable. Yet within years of their introduction, bacterial resistance was already being observed. Today, the WHO identifies AMR as one of the top ten global public health threats facing humanity (WHO, 2023).

The 2022 Lancet study — the most comprehensive analysis of AMR mortality to date — attributed 1.27 million deaths directly to drug-resistant infections globally in 2019, with an additional 4.95 million deaths associated with AMR-related conditions. Projections suggest that, without decisive action, AMR could claim 10 million lives annually by 2050 — surpassing cancer as a cause of death (O'Neill Commission, 2016).

This article, published by the New Bengal Journal of Medicine, provides a rigorous evidence-based analysis of antibiotic resistance: its epidemiology, molecular mechanisms, clinical consequences, diagnostic approaches, therapeutic strategies, and the preventive measures that each clinician, student, and citizen must understand to confront this crisis.

1. Introduction

Breast cancer is the most commonly diagnosed malignancy in women worldwide and a leading cause of cancer-related mortality. According to the World Health Organization (WHO), approximately 2.3 million new breast cancer cases were recorded globally in 2022, accounting for nearly 12.5% of all new cancer diagnoses across both sexes. In India, breast cancer has now surpassed cervical cancer as the most prevalent female malignancy, contributing significantly to morbidity and healthcare burden in both urban and rural populations.

Despite major advances in oncology, late-stage diagnosis continues to undermine treatment outcomes. Studies consistently demonstrate that five-year survival rates for Stage I breast cancer exceed 99%, whereas Stage IV disease carries a survival rate of approximately 29% (American Cancer Society, 2023). This stark contrast underscores the critical importance of early detection through heightened symptom awareness, routine screening, and timely clinical evaluation.

This article, published in the New Bengal Journal of Medicine (NBJM), provides a comprehensive, evidence-based overview of breast cancer — from its epidemiology and pathophysiology to early clinical warning signs, diagnostic modalities, treatment strategies, and the latest research frontiers. It is intended to serve medical students, practising clinicians, and health-literate general readers alike.

 

 


আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (Ultra-Processed Food – UPF) সচেতনতা

প্যাকেটের পেছনে যা লেখা থাকে না: আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড থেকে বাঁচার গাইড

ডঃ চিরঞ্জিত ঘোষ (Dr. Chiranjit Ghosh) 

 


লনজিভিটি ও হেলথস্প্যান (Healthspan vs Lifespan) 

আপনার প্রকৃত বয়স কত ? 

বায়োলজিক্যাল এজ কমানোর ৫টি বৈজ্ঞানিক উপায়

 ডঃ চিরঞ্জিত ঘোষ (Dr. Chiranjit Ghosh)





মানুষের বয়স সাধারণত chronological age অর্থাৎ জন্মের পর কত বছর কেটেছে তা দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। তবে আধুনিক জীববিজ্ঞান ও জেরোন্টোলজি দেখিয়েছে যে মানুষের প্রকৃত স্বাস্থ্যগত বয়স বা biological age অনেক সময় তার ক্যালেন্ডার বয়সের থেকে আলাদা হতে পারে।

Longevity science–এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের healthspan বৃদ্ধি করা—অর্থাৎ এমন সময় বাড়ানো যখন মানুষ সুস্থ, কর্মক্ষম এবং রোগমুক্ত থাকে।

এই নিবন্ধে healthspan ও lifespan-এর পার্থক্য, biological age নির্ধারণের পদ্ধতি, এবং biological age কমানোর পাঁচটি বৈজ্ঞানিক উপায় আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও senolytic supplements, epigenetic aging, lifestyle intervention এবং longevity medicine-এর সাম্প্রতিক গবেষণাও উপস্থাপন করা হয়েছে। 

 


নিউরো-ওয়েলনেস ও নার্ভাস সিস্টেম রেগুলেশন

 Neuro-Wellness: Vagus Nerve Stimulation, Somatic Shaking & Breathwork

মানসিক চাপ কমানোর বৈজ্ঞানিক উপায়

 ডঃ চিরঞ্জিত ঘোষ (Dr. Chiranjit Ghosh)

ImageImageImage




বর্তমান যুগে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং ট্রমা মানুষের জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউরোসায়েন্সের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে Autonomic Nervous System (ANS) নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

এই নিবন্ধে Vagus Nerve Stimulation (VNS), Somatic Shaking এবং Breathwork–এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতির মাধ্যমে নার্ভাস সিস্টেম রেগুলেশন ও মানসিক চাপ কমানোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া এসব পদ্ধতির ফিজিওলজি, ক্লিনিক্যাল প্রমাণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় সম্ভাবনা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।


মানবদেহে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে  

Autonomic Nervous System (ANS)

এই সিস্টেমের দুটি প্রধান অংশ হলো:

  1. Sympathetic nervous system

  2. Parasympathetic nervous system

Sympathetic system সক্রিয় হলে শরীরে তৈরি হয়:

  • স্ট্রেস

  • হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি

  • কর্টিসল নিঃসরণ

অন্যদিকে parasympathetic system শরীরকে শান্ত ও পুনরুদ্ধারের অবস্থায় নিয়ে যায়।

এই parasympathetic সিস্টেমের প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো:

Vagus nerve

ভেগাস নার্ভ: শরীরের “শান্তি স্নায়ু”

Vagus nerve কী?

ভেগাস নার্ভ মানবদেহের দশম cranial nerve (CN X)

এটি ব্রেনস্টেম থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন অঙ্গের সাথে সংযোগ স্থাপন করে:

  • হৃদয়

  • ফুসফুস

  • পাকস্থলী

  • অন্ত্র

  • লিভার

এটি parasympathetic nervous system-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু।

ভেগাস নার্ভের কাজ

ভেগাস নার্ভ শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রধান কাজ

  1. হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ

  2. হজম প্রক্রিয়া

  3. শ্বাস-প্রশ্বাস

  4. প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ

  5. মানসিক স্থিতি বজায় রাখা

ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হলে শরীর যায় Rest and Digest অবস্থায়।

ভেগাস নার্ভ এবং মানসিক স্বাস্থ্য

গবেষণায় দেখা গেছে:

ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতা কম হলে দেখা যায়

  • উদ্বেগ

  • ডিপ্রেশন

  • PTSD

  • ক্রনিক স্ট্রেস

এ কারণে বর্তমানে Vagus Nerve Stimulation (VNS) একটি গুরুত্বপূর্ণ থেরাপি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Vagus Nerve Stimulation (VNS)

ImageImage

Image

Image

VNS কী?

Vagus nerve stimulation হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করা হয়।

এটি দুইভাবে করা যায়:

১. Medical VNS

একটি ডিভাইস শরীরে বসানো হয় যা বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।

এটি ব্যবহৃত হয়:

  • epilepsy

  • depression

চিকিৎসায়।

২. Natural Vagus stimulation

প্রাকৃতিক উপায়েও ভেগাস নার্ভ সক্রিয় করা যায়।

যেমন:

  • গভীর শ্বাস

  • ঠান্ডা পানি

  • গান গাওয়া

  • ধ্যান


Somatic Shaking: শরীরের ট্রমা মুক্তির পদ্ধতি

ImageImageImage

Image

Somatic exercise কী?

Somatic exercise এমন একটি পদ্ধতি যেখানে শরীরের মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত করা হয়।

এই ধারণার ভিত্তি হলো:

শরীর ট্রমা ধরে রাখে।

যখন শরীরকে নির্দিষ্টভাবে নাড়ানো হয়, তখন এই জমে থাকা টেনশন মুক্ত হতে পারে।


Somatic shaking কীভাবে কাজ করে

বন্য প্রাণীদের লক্ষ্য করলে দেখা যায়:

ভয় পাওয়ার পরে তারা শরীর ঝাঁকায়।

এটি শরীরের

stress discharge mechanism

মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।


Somatic shaking এর উপকারিতা

গবেষণায় দেখা গেছে:

এই পদ্ধতি সাহায্য করতে পারে

  • PTSD কমাতে

  • পেশির টেনশন কমাতে

  • নার্ভাস সিস্টেম শান্ত করতে


Breathwork: শ্বাসের মাধ্যমে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ

ImageImageImage

Image

Breathwork কী?

Breathwork হলো নিয়ন্ত্রিত শ্বাসপ্রশ্বাসের একটি পদ্ধতি।

এর মাধ্যমে শরীরের

  • অক্সিজেন প্রবাহ

  • স্নায়ু কার্যকলাপ

  • মানসিক অবস্থা

পরিবর্তন করা যায়।


Breathwork কীভাবে কাজ করে

গভীর ও ধীর শ্বাস:

ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করে।

ফলে:

  • হৃদস্পন্দন কমে

  • কর্টিসল কমে

  • মস্তিষ্ক শান্ত হয়

গুরুত্বপূর্ণ Breathwork পদ্ধতি

১. Box breathing

পদ্ধতি:

৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া
৪ সেকেন্ড ধরে রাখা
৪ সেকেন্ড ছাড়া
৪ সেকেন্ড বিরতি

২. Diaphragmatic breathing

পেট ফুলিয়ে শ্বাস নেওয়া।

এটি vagus nerve সক্রিয় করে।


Polyvagal Theory

এই ধারণা দিয়েছেন:

Stephen Porges

Polyvagal theory অনুযায়ী:

ভেগাস নার্ভ মানুষের

  • সামাজিক আচরণ

  • নিরাপত্তা অনুভূতি

  • ট্রমা প্রতিক্রিয়া

নিয়ন্ত্রণ করে।


নিউরো-ওয়েলনেস: ভবিষ্যতের চিকিৎসা

বর্তমানে নিউরো-ওয়েলনেস একটি নতুন চিকিৎসা ধারণা।

এতে ব্যবহার করা হয়:

  • meditation

  • breathwork

  • somatic therapy

  • vagus nerve stimulation


দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ

প্রতিদিনের সহজ অনুশীলন

  1. দিনে ১০ মিনিট গভীর শ্বাস

  2. ঠান্ডা পানিতে মুখ ধোয়া

  3. হালকা শরীর ঝাঁকানো

  4. ধ্যান

সম্ভাব্য সতর্কতা

যদিও এসব পদ্ধতি সাধারণত নিরাপদ, তবুও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।

বিশেষ করে:

  • গুরুতর মানসিক রোগ

  • হৃদরোগ

  • স্নায়বিক রোগ

থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


নিউরো-ওয়েলনেস ও নার্ভাস সিস্টেম রেগুলেশন ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

Vagus nerve stimulation, somatic shaking এবং breathwork

এই তিনটি পদ্ধতি শরীর ও মনের মধ্যে গভীর সংযোগ তৈরি করে।

যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে এগুলো

  • মানসিক চাপ কমাতে

  • উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে

  • ট্রমা মোকাবিলা করতে

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


References

  1. Porges SW. The Polyvagal Theory.

  2. National Institute of Mental Health (NIMH). Stress and Nervous System.

  3. Lehrer PM, et al. Heart rate variability biofeedback.

  4. Levine PA. Waking the Tiger: Healing Trauma.

  5. Bretherton B et al. Effects of breathing techniques on stress and anxiety.

  6. Cleveland Clinic. Vagus nerve stimulation therapy.


3 অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics) 8 ইতিহাস (History) 9 ওষুধ ও ফার্মাকোলজি (Drugs & Pharmacology) 1 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) 8 ক্যান্সার(Cancer) 1 চিকিৎসা প্রযুক্তি (Medical Technology) 3 চিকিৎসা বিজ্ঞানী (Medical Scientist) 7 জনস্বাস্থ্য সচেতনতা (Public Health Awareness) 4 ডায়াবেটিস (Diabetes) 1 দন্তচিকিৎসা বিজ্ঞান(Dentistry) 1 নাৎসি (Nazi) 6 নারীর সুস্বাস্থ্য (Women's Health) 1 নিউরোসাইকোলজি (Neuropsychology) যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি (Yoga & Naturopathy) 5 পুষ্টি বিজ্ঞান (Nutritional Science) 3 প্যাথলজি(Pathology) 2 মানসিক স্বাস্থ্য (MENTAL DISEASE) 2 যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি (Yoga & Naturopathy) 1 রিজেনারেটিভ মেডিসিন (Regenerative medicine) 1 রিজেনারেটিভ মেডিসিন ও এন্ডোক্রিনোলজি(Regenerative medicine & Endocrinology) 9 রোগ ও চিকিৎসা (Diseases & Treatments) 1 রোগতত্ত্ব (Pathophysiology) 2 লিভার (Liver) 9 স্বাস্থ্য সমস্যা (Health Problem) 1 হার্ট বা হৃৎপিণ্ড (Heart) 1 হোমিওপ্যাথি (Homeopathy)

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by Storman. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget