বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: জনস্বাস্থ্যের বিবর্তন এবং 'আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার'
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: জনস্বাস্থ্যের বিবর্তন এবং 'আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার'
লিখন: ডাঃ চিরঞ্জিত ঘোষ
১. ইতিহাসের আয়নায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস
১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে যখন রোগ-শোক আর মহামারির দাপট, তখন ঐক্যবদ্ধ বিশ্বের এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছিল 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' (WHO)-র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দীর্ঘ আট দশকের এই যাত্রায় গুটিবসন্ত নির্মূল থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ মোকাবিলা—জনস্বাস্থ্যের প্রতিটি মোড়ে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাস্থ্য কোনো একক ব্যক্তির সম্পদ নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব।
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য "আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার" (My Health, My Right) কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দাবি। আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে প্রযুক্তি তুঙ্গে, অথচ অপুষ্টি আর দূষণ সমানভাবে বিদ্যমান।
২. জনস্বাস্থ্যের বর্তমান মানচিত্র: ২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জসমূহ
বর্তমান বিশ্বে রোগতত্ত্বের (Epidemiology) গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে। আমরা এখন 'ট্রিপল বারডেন অফ ডিজিজ' (Triple Burden of Disease)-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
ক. অসংক্রামক রোগের মহামারি (Non-Communicable Diseases - NCDs)
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এবং ক্যানসার এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ নয়।
পরিসংখ্যান: বিশ্বজুড়ে প্রতি ৪ জন মৃত্যুর মধ্যে ৩ জনই মারা যাচ্ছেন অসংক্রামক রোগে।
বিপদ সংকেত: ২০২৬ সালে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হৃদরোগের হার আগের তুলনায় ১৫% বেড়েছে।
খ. জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি
গ্লোবাল ওয়ার্মিং কেবল বরফ গলাচ্ছে না, এটি আমাদের ফুসফুসকেও পুড়িয়ে দিচ্ছে।
বায়ুদূষণ: প্রতি বছর ৭০ লক্ষ মানুষ বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যাচ্ছেন।
নতুন ভাইরাস: বরফ গলার ফলে হাজার বছরের পুরনো সুপ্ত প্যাথোজেন বা ভাইরাস আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
গ. অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR): এক অদৃশ্য যুদ্ধ
আমরা এমন এক সময়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ একটা ক্ষত নিরাময় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে কারণ ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। একে বলা হচ্ছে 'সাইলেন্ট প্যান্ডেমিক'।



